> Energy flow in Ecosystem [বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ] Class 10 Biology Notes

Energy flow in Ecosystem [বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ] Class 10 Biology Notes

Energy flow in Ecosystem [বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ] Class 10 Biology Notes

Energy flow in Ecosystem
Energy flow in Ecosystem


                           শক্তি প্রবাহ (Energy flow in Ecosystem) :

শক্তি প্রবাহের সংজ্ঞাঃ বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক দ্বারা শৃঙ্খলিত সৌরশক্তির এক পুষ্টিস্তর থেকে অন্য পুষ্টিস্তরে স্থানান্তরিত হওয়াকে শক্তিপ্রবাহ বলে।

বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহঃ বাস্তুতন্ত্রে তিনটি পর্যায়ে শক্তি প্রবাহ সম্পন্ন হয় যথাঃ - ১)শক্তি সংগ্রহ, ২)শক্তির ব্যবহার এবং ৩)শক্তির স্থানান্তর।

১)শক্তি সংগ্রহঃ জৈবিক ক্রিয়াকলাপ পরিচালনার জন্য প্রতিটি জীবের শক্তি প্রয়োজন। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক সৌরশক্তি সংগ্রহ করে।

২)শক্তির ব্যবহারঃ খাদ্য-শৃঙ্খলে আবদ্ধ বিভিন্ন জীবগোষ্ঠী উৎপাদক কর্তৃক শৃঙ্খলিত সৌরশক্তিকে পর্যায়ক্রমে গ্রহন করে শক্তির চাহিদা মেটায়। কারন উৎপাদক থেকে ক্রমান্বয়ে সর্বোচ্চ ধাপে (তৃতীয় বা সর্বোচ্চ সারির খাদক) শক্তি প্রবাহ অব্যাহত থাকে। শক্তি প্রবাহ অব্যাহত থাকলে তবেই জীবজগৎ বাঁচে, অন্যথায় তাদের মৃত্যু হয়। অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহের গুরুত্ব অপরিসীম।

৩) শক্তির স্থানান্তরঃ উৎপাদকের দেহ থেকে সর্বোচ্চ খাদকের দেহে শক্তি স্থানান্তরিত হয়। স্থানান্তরকালে প্রতি ধাপে শক্তিক্ষয়ের প্রায় ৯০%। ক্ষয় হওয়া শক্তি কখনই জীবদেহে ফিরে আসে না। বাকি ১০% শক্তি দেহগঠনের কাজে লাগে।

শক্তি প্রবাহের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য [Nature or Characteristics of Energy flow]
১. বাস্তুতন্ত্রে প্রবাহিত শক্তির মূল উৎস হল সূর্য (সৌরশক্তি)। সূর্যবিহীন বাস্তুতন্ত্র জল-বিহীন মৎস্যের সমতুল।

২. বিভিন্ন মৌল চক্রাকারে আবর্তিত হয়, কিন্তু শক্তির চক্রাবর্তন ঘটে না। উৎপাদক কর্তৃক শৃঙ্খলিত সৌরশক্তি বিভিন্ন খাদক-দেহে স্থানান্তরিত হবার পর পুনর্বার উৎপাদকে অথবা সুর্যে ফিরে যায় না।

৩. শক্তিপ্রবাহ সর্বদা একমুখী।

৪. প্রতি খাদ্যস্তরে উত্তরণের সময় অধিকাংশ শক্তির অপচয় হয়। বাকি সামান্য অংশ জীবদেহ গঠনে ব্যবহৃত হয়। লিন্ডেম্যান এর দশ শতাংশের সূত্রানুযায়ী প্রতিটি পুষ্টিস্তরের জীব যে পরিমাণ খাদ্য গ্রহন করে তার মাত্র ১০ শতাংশ নিজ দেহগঠনে ব্যবহার করতে সক্ষম। অর্থাৎ একটি হরিণ যদি ১০০কেজি ঘাস খায়, তবে সেই ঘাসের ১০ শতাংশ (১০ কেজি) তার দেহগঠনের কাজে লাগে। আবার একটি বাঘ যদি ঐ হরিণের ১০ কেজি মাংশ খায়, তবে মাত্র ১ কেজি পরিমাণ মাংশ তার দেহগঠনে ব্যবহৃত হয়।

খাদ্য পিরামিড [Food pyramid]

খাদ্য পিরামিডের সংজ্ঞাঃ পুষ্টিস্তর ও খাদ্য-শৃঙ্খলের ভিত্তিতে কোন একটি বাস্তুতন্ত্রের উতপাদক, প্রাথমিক, গৌণ, প্রগৌণ এবং সর্বোচ্চ খাদকের সংখ্যা নীচ থেকে ক্রমশ উপর দিকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড গঠিত হয় তাকে খাদ্য পিরামিড বলে।

ব্যাখ্যাঃ- প্রসারিত তলদেশযুক্ত অভিসারী এবং একটি বিন্দুতে মিলিত ঘনক-কে পিরামিড বলে।
জীবগোষ্ঠীকে পুষ্টির ক্রম্পর্যায়ে (উৎপাদক থেকে বিভিন্ন খাদক স্তরে) সাজালে সেই সজ্জারীতির প্রতিটি স্তরকে পুষ্টিস্তর বা ট্রপিক লেভেল বলে। বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টিস্তরভিত্তিক পিরামিডকে খাদ্য পিরামিড বলে। খাদ্য পিরামিডের নীচের স্তরে থাকে উৎপাদক। উৎপাদকের সংখ্যা সর্বাধিক। খাদ্য পিরামিডের শীর্ষদেশে থাকে সর্বোচ্চ খাদক। সর্বোচ্চ খাদকের সংখ্যা সবচেয়ে কম। উৎপাদককে নীচে রেখে উপরে পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বোচ্চ সারির খাদককে স্থান দিলে যে কাল্পনিক পিরামিড গঠিত হয় তাকেই বাস্তুসংস্থানগত পিরামিড বা ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে।

খাদ্য পিরামিড তিন প্রকার, যথা -
১) সংখ্যার পিরামিড, ২) শক্তির পিরামিড, ৩) বায়োমাসের পিরামিড

১) সংখ্যার পিরামিডঃ বিভিন্ন পুষ্টিস্তরের সংখ্যাভিত্তিক সম্পর্ক নির্ণয়ের সূচক সংখ্যার পিরামিড। সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে উতপাদকই পিরামিডের সর্বনিম্নে স্থান পায়। উপরের দিকে ক্রমপর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বোচ্চ সারির খাদকের স্থান এবং ক্রমপর্যায়ে এদের সংখ্যাও হ্রাস পেতে থাকে। সংখ্যা হ্রাসের সঙ্গে আনুপাতিক হারে আয়তনও ক্রমশ বৃদ্ধি পায়।

২) শক্তির পিরামিডঃ নীচের পুষ্টিস্তর থেকে উপরের পুষ্টিস্তরে প্রবাহিত শক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রমপর্যায়ে অপচয় বা ক্ষয় হয় এবং মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উৎপাদক যে শক্তি সঞ্চয় করে, উপরের স্তরভুক্ত জীবদেহ পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হবার সময় তা ক্রমান্বয়ে কমে আসে। একেই শক্তির পিরামিড বলা হয়।

৩) বায়োমাসের পিরামিডঃ খাদ্য-শৃঙ্খলে আবদ্ধ প্রতিটি পুষ্টিস্তরের  সর্বোমোট ভর-নির্দেশক পিরামিডকে বায়োমাসের পিরামিড বলে। এ ক্ষেত্রেও উপরের দিকে পুষ্টিস্তরের জীবভর ক্রমশ হ্রাস পায়। পরজীবীর ক্ষেত্রে অবশ্য জীবভরভিত্তিক গঠন সম্প্যররণ বিপরীতমুখী।
 
বায়োমাস ও বায়োস্ফিয়ারের পার্থক্যঃ বাস্তুতন্ত্রের কোন অঞ্চলের উদ্ভিদ বা প্রাণীর মোট পরিমাণ বা সংখ্যাকে জীবভর বা বায়োমাস বলে। সমুদ্রতল থেকে বায়ুমণ্ডলের যে স্তর পর্যন্ত জীবের অস্তিত্ব আছে তাকে বায়োস্ফিয়ার বলে। সমুদ্রে ৭ কিমি গভীরতা পর্যন্ত এবং ভূ-পৃষ্ঠের ওপরে ৬ কিমি ব্যাপী অঞ্চল হল বায়োস্ফিয়ার।

Another Notes On this Chapter-
This Is The Newest Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
This Is The Newest Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner