> ECOSYSTEM AND ECOLOGY CLASS 10 SCIENCE NOTES

ECOSYSTEM AND ECOLOGY CLASS 10 SCIENCE NOTES

ECOSYSTEM AND ECOLOGY CLASS 10 SCIENCE NOTES

    
ECOSYSTEM AND ECOLOGY
ECOSYSTEM AND ECOLOGY

                
                                                            বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)

নমস্কার ছাত্রবৃন্দ আমাদের educational portal  তোমাদের স্বাগত, আজ আমরা বাস্তুতন্ত্র অধ্যায়টি শুরু করব, একটা এপিসোডে শেষ হবে না, তাই আমরা কয়েকটি এপিসোডে শেষ করব। চলো আজকে শুরু করা যাক।

বাস্তুতন্ত্রের ব্যাখ্যা ও অর্থ [Explanation and meaning of Ecosystem]

প্রতিটি জীবের নির্দিষ্ট বসতি আছে। বসতিকে ঘিরেই জীবের পরিবেশ গড়ে ওঠে। বিভিন্ন জীব বিভিন্ন ধরনের পারিপার্শ্বিক পরবেশে বসবাস করে। জীব ও তার পরিবেশের মধ্যে বিশেষ এক অবিচ্ছেদ্য আন্তঃসম্পর্ক বর্তমান।

বাস্তব্যবিদ্যা বা ইকোলজি কাকে বলে? [What is Ecology?]
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীব ও তার পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক আলোচিত হয় তাকে বাস্তব্যবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।

বাস্তব্যবিদ্যার মূল কার্যকারী একক-এর নাম বাস্তুতন্ত্র বা বাস্তুরীতি।
কোন জায়গার পরিবেশ পর্যবেক্ষন করলে বোঝা যায়, সেখানে বিশেষ কতকগুলি গাছপালা ও জীবজন্তু বাস করে। তারা সেখানকার জল, বায়ু বৃষ্টিপাত, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং সর্বোপরি সূর্যালোক ইত্যাদি ভৌতশক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয়।

সমষ্টিগতভাবে বসতির উপর এই প্রভাবকে ভৌত রাসায়নিক ফ্যাক্টর বা আবায়োটিক ফ্যাক্টর বলে। পক্ষান্তরে ঐ বসতিতেই উদ্ভিদ, প্রাণী, বিভিন্ন জীবাণু পারস্পারিক দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে বেঁচে থাকে। বসতির উপর এদের সমষ্টিগত প্রভাবকে বায়োটিক ফ্যক্টর বলে।

বাস্তবে উভয় ফ্যাক্টর অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত থাকে এবং একে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়। বিজ্ঞানী টানসলে-র মতে বাস্তুতন্ত্র এমন এক সক্রিয় একক, যেখানে বায়োটিক ও আবায়োটিক ফ্যাক্টরগুলি পারস্পরিক ক্রিয়ায় লিপ্ত থাকে। দেখা গেছে, বিশেষ একটি পরিবেশ আবায়োটিক ফ্যাক্টরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বায়োটিক ফ্যাক্টরগুলি একটি নির্দিষ্ট বসবাসনীতি গড়ে তোলে। এই যৌথ বসবাসণিতিই বাস্তুতন্ত্র বা বাস্তুরীতি বা ইকোসিস্টেম। বাস্তুতন্ত্র কেবল একটি বিশেষ পরিবেশেই প্রযোয্য নয়। সামগ্রিকভাবে পৃথিবীকেও একটি অখন্ড বাস্তুতন্ত্র বলা চলে। বাস্তুতন্ত্রে জীবের অস্তিত্বের গুরুত্ব সর্বাধিক।
অধকাংশ স্থলজ জীব সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ কিলোমিটার ঊর্ধ্ব পর্যন্ত বসতি স্থাপন করতে সক্ষম। 

চিরতুষারাবৃত পর্বত শিখরে জীবের অস্তিত্ব চোখে পড়ে না। পক্ষান্তরে গড় গভীরতা ৪ কিলোমিটার হলেও সমুদ্রে জীবের বসবাস উপযোগী স্থান প্রায় তিনশ গুন বেশি। তবে সমুদ্রের ঊর্ধ্ব জলস্তরে বসবাসকারী জীবের সংখ্যা সর্বাধিক। সমুদ্রের গভীরতম অংশে আলোর অভাবে জীবশূন্য। বায়ুমন্ডলে ৬ কিলোমিটার ঊর্ধ্ব পর্যন্ত এবং সমুদ্রগর্ভে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত অর্থাৎ ১৩ কিলোমিটার ব্যাপী এলাকায় জীবের বসবাস। পৃথিবীর এই ১৩ কিলোমিটার ব্যাপী স্তর জীবস্তর বা বায়োস্ফিয়ার নামে পরিচিত। পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর মোট পরিমাণ বা সংখ্যাকে জীবভর বা বায়োমাস বলা হয়।

ফ্লোরা ও ফনাঃ বাস্তুতন্ত্রে কোন নির্দিষ্ট স্থানের সমগ্র উদ্ভিদকুলকে ফ্লোরা ও সমগ্র প্রাণীকুলকে ফনা বলে।
বাস্তুতন্ত্রে আণুবিক্ষনিক বা বৃহদায়তন প্রতিটি জীবের উপরেই যথোচিত গুরুত্ব আরোপ করা হয়। যৌথ বসবাসনীতি গড়ে তোলার পক্ষে এদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু ভূমিকা থাকে।

জীবজগতে অস্তিত্ব রক্ষার মূল সূত্র শক্তি প্রবাহ। শক্তির আদি উৎস হল সুর্য। সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষের সময় সৌরশক্তিকে গ্লুকোজ নামক রাসায়নিক যোউগে আবদ্ধ করে। সবুজ উদ্ভিদদেহ থেকে সেই শক্তি অন্যান্য পরভোজী জীবদেহে প্রবাহিত হয়। উদ্ভিদ সৌরশক্তি ছাড়াও বিভিন্ন অজৈব উপকরন মাটি থেকে শোষন করে। অজৈব উপকরন সরবরাহ করার ক্ষেত্রে জীবাণুর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জোইব পদার্থের পচন ঘটিয়ে জীবাণু জীবনধারনের পক্ষে প্রয়োজনীয় অজৈব উপকরন সরবরাহ করে। সুতরাং অজৈব উপাদানের সঙ্গে জীবের সম্পর্ক ঘনিষ্ট; একটি ছাড়া অন্যটির উপস্থিতি অর্থহীন।

বাস্তুতন্ত্রে জৈব ও অজৈব উপাদানের অনুপাত নির্দিষ্ট থাকা প্রয়োজন। কম-বেশি হলে বাস্তুতন্ত্র অচল হয়ে পড়ে। বাস্তুতন্ত্রে এইসব উপাদান সংরক্ষণের গুরুত্ব সর্বাধিক। প্রকৃতির সম্পদ সংরক্ষণ মাধ্যমেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পায়।
 

বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সংজ্ঞা (Definition of Ecosystem)

কোন নির্দিষ্ট বসতিতে ব্যাবহার উপযোগী প্রাকৃতিক অজৈব উয়াপাদানের উপর নির্ভরশীল ঐ স্থানে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠীর মধ্যে যে যৌথ বসবাসনীতি গড়ে ওঠে তাকে বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম বলে।

বাস্তুতন্ত্র সংক্রান্ত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা [Some important definitions related to Ecosystem]

১) বায়ুস্তর বা বায়ুমন্ডলঃ পৃথিবীর উপর অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাসের আবরণস্তরকে বায়ুস্তর বা বায়ুমন্ডল বা অ্যাটমস্ফিয়ার বলে।
২) জলস্তর বা জল্মন্ডলঃ নদ-নদী, হ্রদ, সাগর প্রভৃতির জল দ্বারা সৃষ্ট পৃথিবীর জলভাগকে জলস্তর বা জলমণ্ডল বলে।
৩) অশ্বমন্ডলঃ মাটি ও শিলার সমন্বয়ে গঠিত প্রিথিবী-প্রিষ্ঠের স্থলভাগকে অশ্বমন্ডল বলে।
৪) জীবস্তর বা জীবমণ্ডলঃ পৃথিবীর জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে বসবাসকারী জীবের স্বাভাবিক বাসস্থানকে জীবস্তর বা জীবমন্ডল বা বায়োস্ফিয়ার বলে।
৫) জীবভরঃ বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত কোন একটি অঞ্চলের জীবের সংখ্যা বা পরিমাণকে জিবভর বলে।
৬) জীবগোষ্ঠী বা জীবসপম্রদায়ঃ নির্দিষ্ট কোন বসতিতে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সমগ্র প্রাণী ও উদ্ভিদ গোষ্ঠীকে একত্রে জীবগোষ্ঠী বলে।
৭) পরিবেশঃ উদ্ভিদ, প্রাণী, জীবাণু ইত্যাদি সজীব বস্তু ও এদের চারপাশের আলো, বাতাস, জল, মাটি প্রভৃতি ভৌত পদার্থের সমষ্টিকে পরিবেশ বলে।
৮) বাস্তববিদ্যাঃ বিজ্ঞানের যে শাখায় বাসস্থান ও বসতি সংক্রান্ত আলোচনা করা তাকে ইকোলজি বা বাস্তববিদ্যা বলে।
৯) ইকোলজিকাল নিচ্‌ - বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত জীবগোষ্ঠীতে কোন জীবের অবস্থান ও ভূমিকাকে ইকোলজিকাল নিচ বলে।
১০) অটইকোলজি ও সিনইকোলজিঃ নির্দিষ্ট অঞ্চলে নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির বাস্তববিদ্যা সমপর্কিত আলোচনাকে অটইলজি বলে। পক্ষান্তরে একটি অঞ্চলের সমগ্র জীবগোষ্ঠী নিয়ে বাস্তববিদ্যা সম্পর্কিত আলোচনাকে সিনইকোলজি বলে।
১১) বেনথসঃ জলাশয়ের তলদেশে অবস্থানকারী জীবকে বেনথস বলে। যথা-প্রবাল, স্পঞ্জ, সাগরকুসুম, ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি।
১২) প্ল্যাংটনঃ জলে ভাসমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদের প্ল্যাংটন বলে। উদ্ভিদ-প্ল্যাংটনকে ফাইটোপ্ল্যাংটন এবং প্রাণী-প্ল্যাংটনকে জুওপ্ল্যাংটন বলে। উদাহরন- ডায়াটম, ক্ল্যামাইডোনোনাস ইত্যাদি ফাইটোপ্ল্যাংটন এবং ডাফনিয়া, সাইক্লপস, কবচিশ্রেণী প্রাণীদের লার্ভা ইত্যাদি হল জুওপ্ল্যাংটন।
১৩) নেকটনঃ জলে স্বাধীনভাবে সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম প্রাণীদের নেকটন বলে। যথা - মাছ, চিংড়ি, তিমি ইত্যাদি।

OTHERS NOTES ON THIS TOPIC
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner