> CARBON CYCLE [CARBON DIOXIDE CYCLE] IN BENGALI

CARBON CYCLE [CARBON DIOXIDE CYCLE] IN BENGALI

CARBON CYCLE [CARBON DIOXIDE CYCLE] IN BENGALI

নমস্কার বন্ধুরা, আজ এই অধ্যায়ে আমরা কার্বন চক্র (Carbon Cycle) সম্পর্কে সমস্ত কিছু জানব। যেমন কার্বন চক্র (Carbon Cycle) কি, কার্বন চক্রের বিবরন, কার্বন ডাই-অক্সাইড চক্র (Carbon dioxide cycle), এর গুরত্ব, এটির ভারসাম্য সমস্ত কিছুই জেনে নেব। এখন শুরু করি।
CARBON CYCLE
CARBON CYCLE


                                                       কার্বন চক্র (Carbon Cycle)


কার্বন চক্রের সংজ্ঞা (Definition of Carbon cycle):
যে প্রক্রিয়ায় প্রকৃতির কার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসরূপে পরিবেশ থেকে জীবদেহ এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে প্রকৃতিতে কার্বনের সমতা বজায় রাখে, তাকে কার্বন চক্র বলে।

Carbon Cycle Explanation :
বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রাকৃতিক কার্বনের প্রধান উৎস। কার্বন জীবকোষ তথা প্রোটোপ্লাজমের অন্যতম প্রধান উপাদান। জীবদেহের ওজনের প্রায় ২৪% কার্বন দ্বারা গঠিত। কার্বন জীবদেহের শ্বেতসার, প্রোটিন ও ফ্যাটের মধ্যে নিহিত থাকে। প্রানী নয়, মুখ্যত সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমন্ডল ও জল থেকে কার্বন গ্রহন করে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান মাত্র ০.০৩%। সহজেই জলে দ্রবীভূত হল বলে পুকুর নদী সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত থাকে।

স্থল ও বায়বীয় পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড (carbon cycle in nature)

সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় স্বভোজী স্থলজ উদ্ভিদ মোট কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রায় ১/৩০ ভাগ শোষন করে। সালোকসংশ্লেষের সময় সবুজ উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড থেকে কার্বন আত্তীকরন (carbon assimilation) করে। যার ফলে উদ্ভিদদেহে প্রথম কার্বন যৌগ ফসফোগ্লিসারিক অ্যাসিড (PGA) এবং পরে শর্করা উৎপন্ন হয়। সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর সালোকসংশ্লেষ প্রক্রয়ায় উদ্ভিদদেহে আনুমানিক 15*10^10 টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের আত্তীকরনঘটে এবং ৪০০০ টন শ্বেতসার উৎপন্ন হয়।


উদ্ভিদ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বনিক অ্যাসিড প্রভৃতি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় কার্বন সংগ্রহ করে। পরভোজী প্রাণীরা উদ্ভিদের মতো নিজদেহে খাদ্য সংশ্লেষ করতে পারে না। সে জন্য তারা উদ্ভিদ কর্তৃক সংশ্লেষিত কার্বনযুক্ত যৌগ খাদ্যরূপে গ্রহন করে। খাদ্য-খাদকের সম্পর্ক থাকায় এক প্রাণী দেহ থেকে অন্য প্রাণীদেহে কার্বন স্থানান্তরিত হয়।


সালোকসংশ্লেষের সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘাটতি পড়ে। সমস্ত জীবন্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্বসনকালে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড সেই ঘাটতি পূরণ করে। 


উদ্ভিদ ও প্রাণিজাত দ্রব্যের দহনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুওতে ফিরে আসে। গলিত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে জীবানুর বিক্রিয়ার ফলেও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয় এবং সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মেশে। কয়লা ও পেট্রোল দহনে উৎপন্ন প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান বৃদ্ধি করে।

কার্বন প্রাকৃতিক জলে কার্বনেট ও বাই কার্বনেটরূপে দ্রবিভূত থাকে। সালোকসংশ্লেষের সময় সামুদ্রিক উদ্ভিদ সমুদ্রজলে দ্রবীভূত কার্বইন ডাই-অক্সাইড গ্রহন করে। এই দ্রব্য উদ্ভিদ বহু সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য। সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃতদেহ থেকে কার্বন সমুদ্রজলে মেশে। কয়েকটি প্রণী দ্বারা জলের কার্বন, কার্বনেটে রূপান্তরিত হয়। এইভাবে পরিবেশ থেকে জীবদেহে এবং জীবদেহ থেকে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডরূপে কার্বনের চক্রাবর্তন চলতে থাকে।


পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎস কি? [What is the source of Carbon dioxide in the environment?]

বিভিন্ন উৎস থেকে বায়ুমন্ডলে ও জলমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিরে আসে, যেমন-
 
* শ্বসনের সময় জীবানু, উদ্ভিদ ও প্রানীদেহের জৈবপদার্থ জারিত হলে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড মুক্ত হয়।
* কাঠ, কয়লা, পেট্রোল, গ্যাসোলিন, রবার প্রভৃতি জৈবপদার্থ জারিত হলে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে।
* উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহজাত রেচন ও বর্জ্যপদার্থ, মৃত জৈবপদার্থ ইত্যাদি জীবাণুর দ্বারা বিয়োজিত হলে কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মুক্ত করে। এইভাবে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরমান জীব কর্তিক শ্বসনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি।
* রেল-ইঞ্জিন, মোটরগাড়ি, কলকারখানা ইত্যাদি থেকে এবং প্রতিদিন বিভিন্ন প্রকার জৈববস্তুর দহনে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
* চুনাপাথরের সঙ্গে অ্যাসিডের সংস্পর্শে এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাসে মেশে।



প্রকৃতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষা [Maintenance of Carbon dioxide balance in nature]

জীবদেহে ও প্রকৃতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহন ও বর্জন মাধ্যমেই কার্বন চক্র চালু থাকে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষা পায়। কিভাবে সেই ভারসাম্য রক্ষিত হয় তার কয়েকটি উদাহরন দেওয়া হল।

১) পৃথিবীর মহাসাগরগুলি অফুরন্ত কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎস। সেখানে জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান অপেক্ষা শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ বেশি। সালোকসংশ্লেষের সময় সামুদ্রিক উদ্ভিদ সমুদ্রের জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহন করে। আবার শ্বসনের সময় উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়েই কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড জলে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক অ্যাসিড এবং পরে কার্বনেট ও বাই-কার্বনেটে রূপান্তরিত হয়। বস্তুত সমুদ্রের জলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের অফুরন্ত ভান্ডার।

সমুদ্রগর্ভস্থ খনিজ ফেলসপার, চুনাপাথর ইত্যাদি কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিকল্প উতস। সমুদ্রে সমাহিত জৈব কঙ্কাল, খোলস ইত্যাদি সমুদ্রের তলদেশে চুনাপাথররোপে অবস্থান করে। চুনাপাথর অ্যাসিডের সংস্পর্শে বিশ্লিষ্ট হলে কার্বন ডাই-অক্সাইড মুক্ত হয়।
 
২) সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় স্বভোজী উদ্ভিদ প্রচুর পরিমানে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রাহন করে। ফলে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের অভাব পড়ে তা শ্বসনের উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্বারা মোটামুটি পূরণ হয়ে যায়। রাত্রিকালে সালোকসংশ্লেষ চলে না, কার্বন ডাই-অক্সাইডও শোষিত হয় না। তখন জীবজগতে কেবল শ্বসন চলে এবং বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরমান বৃদ্ধি পায়।
 
৩) উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্যপদার্থ এবং মৃতদেহ জীবানু দ্বারা বিয়োজিত হওয়ার ফলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। মাটির ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক দ্বারা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট জীর্ণ হলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এর কিছু অংশ মাটিতে থেকে যায়, বাকি অংশ বায়ুমন্ডলে মেশে।
 
৪) কয়লা, খনিজ তেল, গ্যাসোলিন প্রভৃতি কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রধান উৎস। এইসব পদার্থ দহনে পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড ফিরে আসে। উষ্ণ প্রস্রবণ, আগ্নেয়গিরি, পীট প্রভৃতি কার্বন ডাই-অক্সাইডের অন্যতম বিকল্প উৎস।
 
৫) পৃথিবীব্যাপী অগণিত কল-কা্রখানা থেকে প্রভূত পরিমান কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ূমন্ডলে মেশে।


এইভাবে নানা পর্যায় পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।


কার্বন চক্রের তাতপর্য বা সার্থকতা [Significance of Carbon Cycle]

প্রকৃতিতে নিয়মমতো কার্বন চক্র চালু থাকলে পরিবেশ কার্বন-শূন্য হয় না। ফলে জীবমন্ডলে জীবের অস্তিত্ব বজায় থাকে। 

                                     এ্কনজরে কার্বন চক্র

১. পরিবেশ থেকে জীবদেহে ও অন্যান্য স্থানে কার্বনের প্রবেশ: ক) সালোকসংশ্লেষের সময় উদ্ভিদ পরিবেশের (স্থলজ ও জলজ) চার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রাহন করে। খ) ঝিনুক, শামুক জাতীয় প্রাণীরা শোষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে কার্বনেটে রূপান্তরিত করে এবং দেহগঠনের কাজে লাগায়।
২. জীবদেহ ও অন্যান্য স্থান থেকে পরিবেশে কার্বনের প্রত্যাবর্তনঃ ক) শ্বসনের সময় উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়েই পরিবেশে কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিত্যাগ করে। খ) উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ বিয়োজক দ্বারা বিয়োজিত হলে জৈব কার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইডরূপে পরিবেশে প্রত্যাবর্তন করে। গ) বিভিন্ন জৈব ও অজৈব বস্তুর দহনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে ফিরে আসে।

NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
NEXT ARTICLE Next Post
PREVIOUS ARTICLE Previous Post
 

Delivered by FeedBurner